সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ধর্ষন মামলা তুলে না নেয়ায় ধর্ষকের অব্যাহত হত্যার হুমকীতে লালমনিরহাটে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এক ধর্ষিতা গৃহবধু। মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকী দিলেও নীরবতা ভুমিকা পালন করছে থানা পুলিশ।
মামলার বিবরনে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের পশ্চিম আমবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধুর স্বামী ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যা দিয়ে তাদের সংসার চালানো অসম্বব। তাই ওই গৃহবধুকে ঢাকায় চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেভায় প্রতিবেশী কলিমুদ্দিনের লম্পট ছেলে ফেরদৌস আলম। সংসারের স্বচ্ছলতার কথা ভেবে ঢাকায় চাকুরীর প্রলোভনে গৃহবধু রাজি হলে লম্পট ফেরদৌস ঢাকার কথা বলে গত ১১ মে সকালে গৃহবধুকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে গৃহবধুকে পাশ্ববর্তি আইর খামার গ্রামের আনছার আলীর ছেলে বেলালের বাড়িতে রাখেন। সেখানে ওই দিন রাতে গৃহবধুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপুর্বক ধর্ষন করে ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন। পরদিন রাতে বাড়ির মালিক বেলাল হোসেন তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে গৃহবধুকে বেলালও ধর্ষন করে। পরদিন ১৩ মে সকালে ফেরদৌস এসে গৃহবধুকে ঢাকা নেয়ার কথা বলে ওই বাড়ি থেকে বের করে স্থানীয় বড়বাড়ি বাজারে পৌছলে গৃহবধুর আত্ম চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে লম্পট ফেরদৌসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় গৃহবধু অভিযোগ দিতে চাইলে থানা পুলিশ আমলে না নিয়ে উল্টো আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার দেখিয়ে ফেদৌসসহ ওই গৃহবধুকে আদালতে প্রেরন করেন। সেখানে মুক্তি পেয়ে গৃহবধু পুনরায় স্থানীয় ভাবে বিচার প্রার্থী হলে ধর্ষক ফেরদৌস ও বেলালের চাপে কোন বিচার পাননি। অবশেষে গৃহবধু আদালতের দাড়স্থ হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে সদর থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করলেও রহস্যজনক কারণে আসামীদের গ্রেফতারে কোন ভুমিকা পালন করেননি। ফলে আসামীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকী দিচ্ছে। সদর থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করার পর লম্পট ফেরদৌস আলম নিজের বাড়ি ছেড়ে শহরের বানভাষা এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অপরদিকে এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আইনের মামলা থেকে বাঁচতে গত শুক্রবার (২৯জুন) রাত ৯টার দিকে লম্পট ফেরদৌস আলম তার নিজ বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে নারী নির্যাতন মামলার স্বাক্ষী ও প্রতিবেশীদের জড়িয়ে লালমনিরহাট সদর থানা একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। যা ২জুলাই সদর থানা পুলিশ অভিযোগটি প্রাথমিক ভাবে তদন্তকালে মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, আসামীদের অব্যাহত হুমকীতে এ মামলার অন্যতম স্বাক্ষী ওই এলাকার নাতা মামুদের পুত্র আমিনুর রহমান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় একটি জিডিও করেছেন।
বুধবার (৪ জুলাই) বিকেলে মামলার বাদী নির্যাতিত গৃহবধু লালমনিরহাট প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, আসামীদের অব্যাহত হুমকীতে বাড়িতে থাকা তার অসম্ভব হয়ে উঠেছে। মামলা তুলে না নিলে জানে মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে আসামীরা। তারা প্রতিদিন তার বাড়ির পাশ দিয়ে শহর থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, মাস্তানরা মহড়া প্রদর্শন করে আতংকিত করে তুলছেন। তিনি এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থারও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপার লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি তদন্ত) রায়হান জানান, মামলাটি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক আদালতে অভিযোগপত্র পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে স্বাক্ষীর জিডিও আমলে নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে জিডিটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।